বাংলাদেশে নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য সুইজারল্যান্ডের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৮শে অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো জিগফ্রিড রেঙ্গলি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। সাক্ষাতের বিষয়টি জাতীয় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সুইজারল্যান্ডের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন উদীয়মান খাতে সুইস বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশ এখন আর কেবল বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং আমরা দেশীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ব্যাপক ও টেকসই স্বনির্ভর বিনিয়োগ চাই। বাংলাদেশে প্রচুর বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়লে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশ দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।”
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি সুইজারল্যান্ডের সুসংগঠিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, বিকেন্দ্রীকৃত ও শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই।” এ ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড সরকারের নীতিগত সহযোগিতা কামনা করা হলে রাষ্ট্রদূত রেটো জিগফ্রিড রেঙ্গলি তাঁর দেশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুশাসন এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের চলমান সহযোগিতারও উচ্চ প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দু’দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও উষ্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালক এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান দিপাক এলমার উপস্থিত ছিলেন।
