কৃষিজমির উর্বর টপ সয়েল কেটে একের পর এক অবৈধ ঝিল তৈরি, শ্রেণি পরিবর্তন এবং সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ঝিল উচ্ছেদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সরাসরি মাঠে নেমে অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩শে অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর সরাসরি উপস্থিতিতে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধভাবে তৈরি প্রায় ২৫টি ঝিলে চাষ করা বিপুল পরিমাণ মাছ উদ্ধার করে সরাসরি নদীতে অবমুক্ত করা হয়। কৃষিজমি ও সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে স্থানীয় সংসদ সদস্যের এই নজিরবিহীন অভিযানে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে কৃষিজমির উপরিভাগের অতি উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে অন্তত ৭১টি ঝিল তৈরি করে অবৈধ মাছ চাষ ও জমি দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২২শে অক্টোবর) প্রথম দফার অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দ্বিতীয় দিনেও দিনভর উচ্ছেদ ও অবমুক্তকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
অভিযানকালে সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কৃষিজমি আমাদের জাতীয় খাদ্য উৎপাদনের প্রধান শক্তি। এই জমির উর্বর টপ সয়েল কেটে ঝিল তৈরি করা হলে জমির স্বাভাবিক রূপ ও উৎপাদনক্ষমতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে। কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের পকেট ভারী করতে কৃষিজমির ক্ষতি করবে কিংবা সরকারি সম্পত্তি দখল করে রাখবে—তা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষিজমি ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার নাগরিক দায়িত্ব। ইব্রাহিমপুরে অবৈধভাবে ঝিল তৈরি করে যারা জমির শ্রেণি পরিবর্তন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যেন ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সাহস না পায়।”
অভিযানকালে চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ডি এম শাহজাহান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমান হোসেন গাজী ও বর্তমান সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগসহ ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে কাটা ৭১টি ঝিলের তালিকা ধরে জমির শ্রেণি ও মালিকানা অনুসন্ধানের পাশাপাশি উচ্ছেদ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
