দ্বীনের দাওয়াত, আত্মশুদ্ধি, ঈমানি চেতনার জাগরণ ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ব্যাকুলতায় চাঁদপুরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী জেলা ইজতেমা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শহরের পুরানবাজার দোকানঘর এলাকার মেঘনাপাড়ে প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই বৃহৎ ধর্মীয় জমায়েতের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
তাবলীগ জামাতের জেলা কমিটির উদ্যোগে ২২, ২৩ ও ২৪শে অক্টোবর পর্যন্ত এই ইজতেমা চলবে। এর আগেও চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচবার সফলভাবে জেলা পর্যায়ের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা যায়, আজ সকাল থেকেই চাঁদপুর জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা এবং আশপাশের জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার তৌহিদী জনতা ইজতেমা ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেছেন। ইজতেমায় আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের অবস্থান, ওজু, গোসল ও ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সুবিশাল প্যান্ডেল, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা ও সাময়িক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠে স্থাপন করা হয়েছে বিনামূল্যে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, তিন দিনব্যাপী এই ইজতেমায় দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা ও প্রবীণ আলেমে দ্বীনগণ অংশ নিয়ে কোরআন-হাদিসের আলোকে দ্বীনি আলোচনা, ঈমান ও আমলের গুরুত্ব, আখলাক ও দাওয়াতি কাজের ওপর দিকনির্দেশনামূলক মূল্যবান বয়ান রাখবেন। একই সঙ্গে জিকির-আজকার ও ইবাদতের মাধ্যমে পুরো ময়দান মুখরিত থাকবে।
এ বিষয়ে তাবলীগ জামাতের চাঁদপুর জেলার জিম্মাদার মো. আরিফ উল্লাহ জানান, “আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ, আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং মানবজাতিকে দ্বীনের সরল পথে আহ্বান জানানোর লক্ষ্যেই আমাদের এই নিয়মিত আয়োজন। আগামী শনিবার (২৪শে অক্টোবর) হেদায়েতি বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শেষ হবে। আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য কামনা করে দোয়া করা হবে।”
