আওয়ামী লীগকে একটি 'দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী দল' হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ দলটিকে আর কখনও রাজনীতি করতে দেবে না।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় স্পিকারকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তজুমদ্দিন উপজেলা শাখার পক্ষ থেকেও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছিল দেশের সম্পদ লুটপাট করতে। দলটির সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিবাদের এক সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিদেশে দুই শতাধিক বাড়ি রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।’
বিগত শাসনামলে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঘটে যাওয়া অন্যায়-অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, ‘২০০১ সালে এই আসনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি পরাজিত হওয়ায় পরবর্তীতে ঢাকা থেকে এক সন্ত্রাসীকে এনে নির্বাচনে দাঁড় করান শেখ হাসিনা। সেই ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে লালমোহনে ৫০০ বিঘা জমি ও ঢাকায় একাধিক বাড়ি করেছিলেন। তবে গত ৫ আগস্টের পর সেসব সম্পদ ফেলে রেখেই তাঁকে সপরিবারে পালিয়ে যেতে হয়েছে।’
এ সময় নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে স্পিকার জানান, তজুমদ্দিনকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হবে এবং বিনোদনের জন্য মেঘনা নদীর তীরে একটি পার্ক নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন তিনি।
তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ ওমর আসাদ রিন্টুর সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে স্পিকার তজুমদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
