নিশ্ছুদ্র নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ ভারত থেকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে মরদেহবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে পৌঁছায়। ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহটি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে মারণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মাহফুজুল হায়দার ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলে ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। বিজিবির পাশাপাশি অতিরিক্ত বিশেষ সৈনিক মোতায়েন করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি সীমান্ত এলাকা ত্যাগ না করা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার মধ্যরাতের পর থেকেই বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় দফায় দফায় মহড়া ও নজরদারি বাড়ানো হয়। রবিবার সকালে কাস্টমস, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মকর্তাসহ সাংবাদিকদের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও রোগীদের যাতায়াতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট ও ভিসার মাধ্যমে বেনাপোল হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন রোটন। পরে কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশন মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর অনাপত্তিপত্র প্রদান করে।
রোববার সকালে বেনাপোল চেকপোস্টে রোটনের মরদেহ গ্রহণ করেন তার বড় ভাই নাসিমুল হায়দার চৌধুরী ও স্ত্রী আরেফা সুলতানা। পুলিশ প্রহারায় মরদেহটি ঢাকা ও পরে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাহফুজুল হায়দার চৌধুরীর স্ত্রী আরেফা সুলতানা জানান, ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ চট্টগ্রামের রাউজানের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান।
