স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। এর ফলে সাজেক উপত্যকায় যাতায়াতকারী অন্তত নয়শ পর্যটক অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর আহ্বানে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। এর ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে শনিবার বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহারকারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেক এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতেই তারা রাজপথে নেমেছেন।
সংগঠনের সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন,‘জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত জানান, শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর স্কর্টে ছোট-বড় গাড়ি ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে ৯০টি যানবাহনে করে ৯ শতাধিক পর্যটক সাজেকে পৌঁছান। কিন্তু সড়ক বন্ধ থাকায় তাদের অনেকে এখন ফিরতে পারছেন না।
তবে সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুরে নিরাপত্তা স্কর্টের মাধ্যমে পর্যটকদের সাজেক থেকে ফেরানো এবং নতুনদের প্রবেশের কিছুটা সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
