কারাগারে আটক থাকা অবস্থাতেই একাত্তর টেলিভিশন থেকে নিয়মিত বেতন পাবেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ডেইলি ওয়াদা।
পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি একাত্তর টেলিভিশনের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) ও হেড অব নিউজ শফিক আহমেদকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর কয়েক দিন আগে কারাগারে থাকা কয়েকজন সাংবাদিকের বেতন পুনরায় চালুর নির্দেশনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একাত্তর টেলিভিশনকে মোজাম্মেল বাবু ও অন্যদের বেতন পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্রটির দাবি, মোজাম্মেল বাবুর মাসিক বেতন ১৬ লাখ টাকা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী ও মেয়ের প্রত্যেককে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা করে মাসিক বেতন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপার প্রত্যেকের প্রায় চার লাখ টাকা করে মাসিক বেতন পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে করা মামলায় মোজাম্মেল বাবু, শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা শাপলা চত্বরের ঘটনার মামলায়ও আসামি।
শফিক আহমেদের চাকরিচ্যুতি
এসব ঘটনার মধ্যেই একাত্তর টেলিভিশনের সিওও ও হেড অব নিউজ শফিক আহমেদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দুটি সূত্রের ভাষ্য, বেশ কয়েক দিন ধরে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। পরবর্তী সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার চাকরির অবসান ঘটানো হয়।
২০২৪ সালের ৭ আগস্ট একাত্তর টেলিভিশনের সিওও এবং হেড অব নিউজের দায়িত্ব পান শফিক আহমেদ। এর মাত্র দুই দিন আগে, ৫ আগস্ট সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একাত্তর টেলিভিশনের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সংকটের পর শফিক আহমেদ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সংবাদ পরিবেশনে ভারসাম্য আনা, নতুন ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নিয়োগ এবং টকশোতে বিভিন্ন মতের মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় তার সময়ে। একটি সূত্রের দাবি, এসব পরিবর্তনের ফলে ২০২৪ সালের নভেম্বর নাগাদ একাত্তর টেলিভিশন আবারও লাভজনক অবস্থায় ফিরে আসে।
তবে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে অভিযুক্ত কয়েকজন সাংবাদিককে আবারও নিউজরুমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর পরপরই শফিক আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
চাকরিচ্যুতির বিষয়ে শফিক আহমেদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মেঘনা গ্রুপের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে জানিয়েছে ডেইলি ওয়াদা।