ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মো. আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিন আবেদনে হত্যা মামলার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা উল্লেখ না করে তথ্য গোপনের অভিযোগে আদালত এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে শুনানির সময় মামলার প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন না করায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করেছেন আদালত।
গত সোমবার বিচারক কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারক শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মশিউর রহমান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুকনুজ্জামান সুজা।
মামলার নথি অনুযায়ী, শুনানির শুরুতে আদালত আসামির আইনজীবীর কাছে জানতে চান, রাজু হত্যা মামলার আসামি কি না। আইনজীবী ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলে ভুক্তভোগীর নাম জানতে চান আদালত। এ সময় আইনজীবী কেবল ‘ওসমান’ বললে আদালতের সন্দেহ হয়। পরে জামিন আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত নথিপত্র যাচাই করে আদালত নিশ্চিত হন, এটি শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যা মামলা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রুকনুজ্জামান সুজা জানান, আসামির জামিন আবেদনের ‘কজ টাইটেলে’ ৩০২ ধারার উল্লেখ ছিল না। এমনকি চার্জশিটের প্রথম পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে কেবল দ্বিতীয় পৃষ্ঠা আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল, যাতে এটি যে হত্যা মামলা তা সহজে বোঝা না যায়। তথ্য গোপন করার বিষয়টির প্রমাণ পাওয়ায় আদালত সরাসরি আবেদনটি খারিজ করে দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় শরীফ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তাঁর মৃত্যু হলে মামলাটিতে ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। ঘটনার পর মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তার অভিযোগে একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর থেকে আমিনুল ইসলাম রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত রাজুসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।