মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা : এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতিসহ পুরো বেঞ্চ

Writer
বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
08 Sep, 2026 02:55 PM 4 বার পঠিত 1 মিনিট পড়ার সময়

ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের তীব্র বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বার সভাপতির এক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ এজলাস ত্যাগ করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাসে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আদালত সংশ্লিষ্ট ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, এদিন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ১ নম্বর আইটেমে হাইকোর্ট বিভাগে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগসংক্রান্ত একটি রিট মামলার শুনানি ছিল। তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে ওই মামলার রিটকারী মো. নূর আলম এবং তার আইনজীবী সুফিয়া আহমেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই জরিমানার আদেশ দেওয়ার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জরিমানার টাকা মওকুফের আবেদন জানিয়ে ডায়াসে দাঁড়ান। তিনি বলেন, একজন জুনিয়র আইনজীবীর পক্ষে এত টাকা জরিমানা দেওয়া অসম্ভব। শুনানির একপর্যায়ে ব্যারিস্টার খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম (আয়) কমে গেছে।’

বার সভাপতির এমন মন্তব্যে আদালত কক্ষে গুমোট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন। বাগবিতণ্ডা বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সকল বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় চলে যান। এতে ওই দিনের মতো আপিল বিভাগের বিচারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

পরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে উনাকে বলেছিলাম যে, আপিল বিভাগে এখন মামলার সংখ্যা ও শুনানি অনেক কমে গেছে। আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন, তিনটি বেঞ্চে নিয়মিত শুনানি হতো। এখন মাত্র একটি বেঞ্চে শুনানি হয়। এতে বিচারপ্রার্থীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি আইনজীবীদের আয়ও কমে গেছে। একজন নারী আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করাটা অনেক বেশি হয়ে যায়, সেটা মওকুফ করার অনুরোধ জানিয়েছি মাত্র।’

ব্যারিস্টার খোকন আরও অভিযোগ করেন, ‘চেম্বার জজ আদালতে একটি মামলা শুনানির জন্য আমি গত এক বছরে চারবার আবেদন করেও সুযোগ পাইনি। অনেক মামলা স্টে (স্থগিত) হয়ে পড়ে থাকে, শুনানি হয় না। এতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমি এসব পেশাগত সমস্যার কথাই বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রধান বিচারপতি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে নিয়েছেন।’

আদালত পাড়ায় এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের অনেকে বলছেন, বিচারালয়ের মর্যাদা রক্ষায় উভয় পক্ষকেই সংযত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে উচ্চ আদালত ও আইনজীবীদের মধ্যকার এই দূরত্ব বিচারপ্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এজলাস ত্যাগের পর ওই দিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আর কোনো মামলা শুনানি হয়নি। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ: জাতীয়