ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীদের নিয়ে নীতিগত (পলিসি) ডিবেট আয়োজনের উদ্যোগ নিলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনো এতে সাড়া দেননি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ফরহাদ বলেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে আমরা চেয়েছিলাম—যারা সামনে দেশ শাসনের দায়িত্ব নিতে চান, তারা যেন জনসম্মুখে এসে নিজেদের নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সে অনুযায়ী জামায়াতের আমিরকে সপ্তাহখানেক আগে এপ্রোচ করা হলে তিনি ডিবেটে অংশ নিতে সম্মতি দেন। একই প্রস্তাব তারেক রহমানের কাছেও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ডাকসু জিএস বলেন, “যেদিন কেউ সাহস করে পারস্পরিক ডিবেটে এসে নিজের পলিসি মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারবে, সেদিনই বোঝা যাবে—তিনি দেশ সম্পর্কে কতটা ধারণা রাখেন এবং আদৌ শাসন করার যোগ্য কিনা।”
তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে ফরহাদ বলেন, “আমরা দেখছি তিনি সারা দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। কোথাও বদর যুদ্ধের কাহিনি শোনা যাচ্ছে, কোথাও আবার যেখানে ইপিজেড আগে থেকেই আছে সেখানে গিয়ে নতুন করে ইপিজেড করার কথা বলছেন। ভুট্টা চাষের এলাকায় গিয়ে সোয়াবিন চাষের কথা বলছেন। যশোরে গিয়ে বলেছেন বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল চালু করবেন, অথচ সেখানে কোনো চিনিকলই ছিল না।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “যদি ১২ তারিখে আমরা ভুল জায়গায় সিল মারি, ভুল লোককে সামনে নিয়ে আসি, তাহলে সামনে ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে। যাদের দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই, তারা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশ পরিচালনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।”
ফরহাদ আরও বলেন, তারেক রহমান প্রায়ই অভিজ্ঞতার কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি নিজে কখনো নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। “১৫ বছর ফ্যাসিবাদ ছিল—এটা সত্য। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থাকে, দেশ শাসনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তিনি কোথা থেকে অর্জন করলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর আমরা জনসম্মুখে জানতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।”
ডাকসু জিএস জানান, তাদের প্রত্যাশা ছিল—সব পক্ষই ডিবেটে অংশ নিয়ে জনগণের সামনে নিজেদের পরিকল্পনা স্পষ্ট করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।