বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়ার মরিচ্যা বাজারে ঘটেছে এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একটি হিন্দু পরিবারের ছেলে মুসলিম পরিচয়ে প্রেম, বিয়ে এবং সন্তান জন্মদান করার পরপরই সম্পর্ক ফাঁস হলে সেই প্রেমিক যুগল রহস্যজনকভাবে লাপাত্তা হয়ে যায়। ঘটনাটি সামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার রঙি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবলু কর্মকার (২৬), পিতা ভদ্র কর্মকার, মূলত একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও মরিচ্যা বাজারে নিজেকে মুসলিম পরিচয়ে পরিচিত করিয়েছিলেন। বাবলু মরিচ্যা বাজারের এক মুদি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রতিদিন এই দোকানে নিয়মিত আসতেন ব্র্যাক অফিসের মাঠ কর্মী রিফা সুলতানা। প্রতিদিনের এই আসা-যাওয়ার মাঝে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাবলু নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে মুসলিম পরিচয়ে রিফার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন। তার চালচলন, আচার-আচরণ এমনভাবে ছিল যে, কেউই সন্দেহ করেনি তিনি মুসলিম নন। নিজেকে মুসলিম পরিচয়ে মেলে ধরার কৌশলেই তিনি রিফার মন জয় করেন। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা গোপনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।বিয়ের পর বাবলু ও রিফা শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটি পাহাড়ি অঞ্চলে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। এসময় তারা তাদের সংসার জীবন শুরু করেন এবং সবার কাছ থেকে আলাদা থাকতে চেষ্টা করেন। তাদেরকে সেখানে অনেকেই স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে চিনত। তবে তারাও জানতেন না যে, বাবলুর প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় কি।
দাম্পত্য জীবনের কিছু সময় পর রিফা সুলতানা সন্তান সম্ভবা হন। এসময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সন্দেহ হলে রিফা ধীরে ধীরে খোঁজ নিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামী বাবলু আসলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এই খবরে রিফা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কিন্তু পরিস্থিতি এমনই ছিল যে, তিনি তৎক্ষণাৎ কিছুই করতে পারছিলেন না।বাবলুর প্রকৃত পরিচয় জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই এমন প্রতারণামূলক ঘটনার নিন্দা জানায় এবং এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বশর বলেন, আমরা সবাই বাবলুকে মুসলিম হিসেবে জানতাম। তার সাথে আমাদের সম্পর্কও সেই পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করেই ছিল। পরে জানতে পারি যে তিনি আসলে হিন্দু, বিষয়টি শুনে আমরা অবাক হই।এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পরপরই রাতের আঁধারে তারা সেই বাসাটি ছেড়ে গোপনে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর মতে, এমন প্রতারণামূলক ঘটনায় তাদের ক্ষোভ রয়েছে এবং এ ব্যাপারে তারা সামাজিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ব্র্যাক অফিসের ম্যানেজার লিটন জানান, রিফা সুলতানা আমাদের অফিসের একজন পুরনো কর্মী। প্রায় ৫-৬ বছর ধরে সে এখানে দায়িত্ব পালন করতো। হঠাৎ একদিন সে এসে জানায়, সে আর চাকরি করবে না এবং কক্সবাজারের বাসায় ফিরে যাবে। এরপর থেকে আমাদের সাথে আর যোগাযোগ রাখেনি।
এই ঘটনাটি উখিয়া জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক মাধ্যমে এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতারণার এই ঘটনাটি এলাকাবাসীর পাশাপাশি সামাজিকভাবেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইসরাত স্মৃতি/বার্তা বিভাগ