• বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম

তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই উপসাগরে বিদেশি দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করল ইরান

রির্পোটার / ৮ পাঠক
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই জ্বালানি পাচারের অভিযোগে বিদেশি নাবিকসহ দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে ইরান। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির উপকূলীয় জলসীমা থেকে ট্যাঙ্কার দুটি আটক করে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জব্দ করা ট্যাঙ্কার দুটিতে এক মিলিয়ন (১০ লাখ) লিটারের বেশি পাচার করা জ্বালানি তেল বহন করা হচ্ছিল। আইআরজিসির দাবি, এসব জ্বালানি অবৈধভাবে উপসাগরীয় জলসীমা দিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

তবে ট্যাঙ্কার দুটি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল এবং আটক নাবিকরা কোন দেশের নাগরিক—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ। আইআরজিসি জানিয়েছে, ট্যাঙ্কার দুটিতে থাকা মোট ১৫ জন বিদেশি নাবিককে ইরানের বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলন দমনে ইরানের শাসকগোষ্ঠী ব্যাপক বলপ্রয়োগ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, বিক্ষোভ দমনের সময় এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। এর জেরে ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে একটি নৌবহর মোতায়েন করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রেক্ষাপটে বিদেশি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ইরান একদিকে যেমন জ্বালানি পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েনের নতুন মাত্রা যোগ করছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও