কিছু অভিজ্ঞতা মানুষকে শুধু বদলায় না—ভেতর থেকে ভেঙে দেয়।
২০২০ সালের পর রিয়া চক্রবর্তীর জীবনে ঠিক সেটাই ঘটেছিল।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই রিয়া হয়ে যান সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দু। আদালত, তদন্ত, মিডিয়ার ক্যামেরা আর সামাজিক রোষ—সব মিলিয়ে যেন একা একজন মানুষের ওপর পুরো দেশের চোখ। এক মাসের জেলবাস ছিল তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে আসার পরও মুক্তি আসেনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রিয়া বলেন, তখন তার মনে হতো—এই পৃথিবীটা আর বাসযোগ্য নয়। বাইরে বেরোতে ইচ্ছা করত না। দরজা খুলে কোনো পুরুষকে দেখলেই অজানা আতঙ্কে হাত-পা কাঁপত। শরীরের ভেতর দিয়ে বয়ে যেত খারাপ সব চিন্তার স্রোত।
এই ভয় কোনো অভিনয় নয়, কোনো সহানুভূতি কুড়ানোর কৌশলও নয়—এটা ট্রমা।
একজন মানুষ যখন বারবার জনসমক্ষে ‘অপরাধী’ হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, যখন কোটি মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় তার গ্রেপ্তারের দৃশ্য দেখে, তখন সেই ক্ষত কাগজে-কলমে ক্লিনচিট পেলেও সহজে শুকায় না।
রিয়ার আক্ষেপ—যদি সেই কোটি দর্শকের অন্তত এক কোটিও বুঝত, আদালত থেকে মুক্তি পাওয়ার অর্থটা কী। বোঝা মানে ক্ষমা নয়, বোঝা মানে অন্তত মানুষ হিসেবে দেখা।
দীর্ঘ ছয় বছর পর আবার অভিনয়ে ফিরছেন রিয়া চক্রবর্তী। কিন্তু এই ফেরা কোনো গ্ল্যামারের গল্প নয়। এটা ভয় পেরিয়ে, অপমান পেরিয়ে, নীরব যুদ্ধ জিতে ওঠার গল্প। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে তাকে লড়তে হয়েছে নিজের ভেতরের অদৃশ্য দানবগুলোর সঙ্গে।
রিয়া আজও পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাননি—সেটাই হয়তো সবচেয়ে সত্যি কথা।
কিন্তু ভাঙা মানুষ যখন আবার হাঁটতে শেখে, সেটাই সবচেয়ে বড় সাহস।