মেঘনা নদীবেষ্টিত চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দুর্গম ঈশানবালা চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও শিল্পায়নের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা এই চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আজ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) সকালে তাঁর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চরটির ভৌগোলিক অবস্থান, জমির প্রাপ্যতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের সার্বিক উপযোগিতা পর্যালোচনা করে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, ঈশানবালায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু শিল্পকারখানাই গড়ে উঠবে না, বরং পুরো অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থারও অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটবে। জীবিকার সন্ধানে স্থানীয় মানুষের অন্যত্র ছুটে যাওয়ার প্রবণতাও এতে উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনির হোসেন বলেন, “এখানে শিল্পায়ন গড়ে উঠলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই এলাকার মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আমরা চাই, সরকারের এই সদিচ্ছা দ্রুত বাস্তবে রূপ নিক।”
প্রতিনিধিদলের পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামিউল হিকমা এবং হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সাংবাদিকদের জানান, ঈশানবালা চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে আমরা সরেজমিনে এসেছি। এখানকার অবকাঠামোগত সুযোগ ও কারিগরি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া।
এদিকে এ বিষয়ে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, “হাইমচরের ঈশানবালা চর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি এলাকা। এখানে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরসহ আশপাশের অঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ এখনই চূড়ান্ত বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। জমির উপযোগিতা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অন্যান্য কারিগরি সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন দিন গুনছেন ঈশানবালা চরসহ আশপাশের লাখো মানুষ।
