শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) পুনর্গঠন করে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তারা। এ ছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়। শেয়ারবাজারের অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিসিএমআইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম মানিকসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ বিনিয়োগকারী উপস্থিত ছিলেন।
ইসমাইল হোসেন বলেন, আইসিবি পুনর্গঠনের পর সরকার থেকে নতুন করে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে শেয়ারবাজারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে হবে। এতে বাজারে তারল্য বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হারানো আস্থা ফিরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লোকসানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে বিপুলসংখ্যক সাধারণ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নতুনভাবে গঠিত সম্মিলিত ব্যাংকের শেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত এসব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মানিক বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যাহত দরপতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই তাঁদের জীবনের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়ে নিঃস্ব। এই সার্বিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শেয়ারবাজারের সংকট ও বিনিয়োগকারীদের দুর্দশার বিষয়গুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে চান তাঁরা।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ১০ মিনিট সময় চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাক্ষাতের সুযোগ পেলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা, আইসিবির মাধ্যমে বাজারে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা ফেরানোর বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।
আইসিবির ভূমিকা প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মানিক বলেন, শেয়ারবাজারে উত্থান-পতনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রয়োজনের সময় বাজারকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে আইসিবির মূল ভূমিকা থাকার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যক্রমে বাজারের ধারাবাহিক পতন ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই আইসিবির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ট্রাস্টি প্রধানের অপসারণ করে নতুন যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেয়ারবাজারের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের পতন ও অস্থিরতায় বাজারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছেন সবাই।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএসইসির নানা তড়িঘড়ি পদক্ষেপ ও ডিএসইর তদন্ত কার্যক্রমের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। একসময় যেখানে দৈনিক লেনদেন প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতো, বর্তমানে তা কমে মাত্র ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে।
অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিরোধিতা না করে বক্তারা বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করার নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হয়রানি করা হলে বাজারের প্রতি আস্থা ফিরবে না। নিয়ম মেনে কেউ বিনিয়োগ করলে বা শেয়ার কিনলে তার ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিগত কার্যক্রমে সংযম ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতের তাগিদ দেন তারা।
এ ছাড়া শেয়ারবাজারের তারল্যসংকট মোকাবিলায় সরকারি পেনশন তহবিলের অর্থ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া এবং ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) বাজারের বন্ধ ও অকার্যকর কোম্পানিগুলো অবসায়নের জন্য পৃথক কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দেন বিনিয়োগকারী নেতারা।
