নীলফামারীর ডিমলায় একটি জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকো পরিদর্শনে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মো. আব্দুস সাত্তার এবং তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা। সাঁকোটি পার হওয়ার সময় হঠাৎ এর একটি অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যান এমপির সঙ্গে থাকা কয়েকজন কর্মী। তবে সংসদ সদস্য যে অংশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেটি অক্ষত থাকায় তিনি বড় কোনো দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নাটাবাড়ী এলাকায় নাউতারা নদীর ওপর নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সাঁকোতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে কোনো সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে যাতায়াত করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে যাতায়াতের সুবিধার্থে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করেন। গতকাল বুধবার স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাঁকোটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শনে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিদর্শনের সময় জরাজীর্ণ সাঁকোটি দেখে কেউ কেউ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়লে কয়েকজন নেতাকর্মী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘শেষ মাথা পর্যন্ত গেলেও কোনো সমস্যা হবে না।’ তবে সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সাঁকোটির ওপর ওঠার পর অতিরিক্ত ওজনের কারণে হঠাৎ পেছনের অংশটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। এতে এমপির পেছনে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী সরাসরি নিচে নদীতে পড়ে যান।
নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় লোকজন নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে এই সাঁকোটি তৈরি করেছিলেন। এমপি সেটি দেখতে গিয়েছিলেন। সাঁকোটির ওপর একসঙ্গে অতিরিক্ত মানুষ ওঠার কারণে হঠাৎ একাংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, "সাঁকোটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আমরা পরিদর্শনে ওঠার পর মানুষের চাপে পেছনের অংশটি ভেঙে পড়ে। এতে আমাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন নিচে পড়ে গিয়ে সামান্য আঘাত পান এবং তাঁদের পোশাক ছিঁড়ে যায়। এই ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন।"
তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করতে সেখানে সরকারি অর্থায়নে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।