হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে নূরুল ইসলাম সাজল নামের এক সাবেক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল হাই।
অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম সাজল চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় জারুলিয়া বাজারে একটি ফার্মেসির মালিক এবং গাজীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি।
মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী শারীরিক প্রতিবন্ধী। স্বামী ও সন্তানের জন্য প্রায়ই জারুলিয়া বাজারে নূরুল ইসলামের দোকানে ওষুধ কিনতে যেতেন ওই নারী। এই সুবাদে তাঁদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে নূরুল ইসলাম ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দেন। ওই নারী প্রথমে রাজি না হয়ে বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানান। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন নূরুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নূরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে মামলা না করার জন্য বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেখান। এরপর তিনি থানায় গেলে পুলিশ তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম সাজলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত। চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ইদ্রিস আলী জানান, ‘অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গত ৬ আগস্ট দলের এক জরুরি সাংগঠনিক সভায় নূরুল ইসলাম সাজলকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’