আগস্ট ১৩, ২০২৬
Busimess

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভায় ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ঠিকাদারকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তাঁর সহযোগী মোসলেম উদ্দিন।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে এই মারধরের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ।

আহত অবস্থায় হাসিবুল হাসানকে প্রথমে উদ্ধার করে নগরকান্দা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী ঠিকাদার হাসিবুল হাসান জানান, তাঁর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নগরকান্দা পৌরসভার তিনটি সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় আট মাস আগে সংশ্লিষ্ট কাজের বিল অনুমোদন হলেও তা রহস্যজনকভাবে আটকে রাখা হয়।

হাসিবুলের অভিযোগ, বিল ছাড় করার বিনিময়ে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তাঁর কাছে মোট বিলের ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে গত ১০ আগস্ট তিনি হুমায়ুন কবিরকে ৫ লাখ টাকা দেন। তবে বাকি টাকার জন্য আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে বিলের ফাইল আটকে রেখে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছিল।

বুধবার দুপুরে আটকে থাকা ওই বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে যান হাসিবুল। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হুমায়ুন কবির ও তাঁর সহযোগী মোসলেম উদ্দিন কক্ষের দরজা বন্ধ করে জিআই পাইপ দিয়ে তাঁকে বেদম মারধর করেন। এতে তাঁর হাত ভেঙে যায়। এই ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান আহত ঠিকাদার।

তবে ঘুষ দাবি ও মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, "ওই ঠিকাদারের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় নিয়ম মেনে বিল আটকে দেওয়া হয়েছিল। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিল ছাড় না করতে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।" হুমায়ুন কবিরের দাবি, বিল না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ঠিকাদার হাসিবুলই প্রথমে তাঁদের কক্ষে ঢুকে হামলা চালান। জিআই পাইপ দিয়ে মারধর ও হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগটি সত্য নয়।

এ বিষয়ে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিলের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। কাজে অসংগতি থাকায় এবং কাজ সম্পূর্ণ শেষ না করায় বিল আটকে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের অপ্রীতিকর ও মারধরের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, "প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে ঠিকাদার কী কারণে গিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"