আগস্ট ১৩, ২০২৬
Busimess

বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী ১২ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও এলএনজি সংগ্রহের পাশাপাশি চাল, তেল, ডাল, সার আমদানি এবং একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে মার্কিন কোম্পানি ‘গানভর ইউএসএ এলএলসি’র কাছ থেকে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৫ কার্গো, ২০২৭ সালে ৬ কার্গো এবং ২০২৮ সালে ৩ কার্গো এলএনজি জে কে এম (জাপান কোরিয়া মার্কার) সূচকের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম যুক্ত করে কেনা হবে। পরবর্তী সময়ে, অর্থাৎ ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি সরবরাহ করবে মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটি।

সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও গ্যাস
আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান অস্থিরতা মোকাবিলায় এবং দেশের গ্যাসের জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) আরও এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি এবং হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পৃথক সভায় জরুরি ভিত্তিতে আরও ৮ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর অধীনে হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং থেকে ২টি, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস থেকে ২টি, চীনের চায়না রুনজে হোল্ডিংস থেকে ২টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দারাব ইনকরপোরেটেড থেকে ২টি কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা হবে।

চাল, ডাল, তেল ও সার আমদানি
বৈঠকে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় অঙ্কের পণ্য আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে ১ লাখ টন নন-বাসমতী সেদ্ধ চাল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫১৫ কোটি ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। প্রতি কেজি চালের আমদানি মূল্য পড়বে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা।

এছাড়া দেশের সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে ইন্দোনেশিয়ার পিটি ট্রিনিটি চাহয়া এনার্জি থেকে ২৫ হাজার টন চিনি ও ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘নাবিল নাবা ফুডস’ থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদন সচল রাখতে সৌদি আরব ও মরক্কো থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে কমিটি। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৯০২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

অন্যান্য সিদ্ধান্ত
সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ৩২০ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনস্থ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে এসব ট্যাব সরবরাহ করা হবে।

এছাড়া বৈঠকে বিআইডব্লিউটিএর নদী খনন প্রকল্প, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আইটি অবকাঠামো স্থানান্তর এবং ফেনী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের বেশ কয়েকটি সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।