আগস্ট ১৩, ২০২৬
Busimess

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের নির্ভয়ে এবং বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁরা আশ্বস্ত করেছেন, বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষায় সব ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করাসহ প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়।


সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট অলিভার সিম্পসন।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মার্কিন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আপনারা কোনো ধরনের সংশয় ছাড়াই নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে বিনিয়োগ করুন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সব ধরনের নীতিসহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

তিনি জানান, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে সরকার ‘ডিরেগুলেশন’ বা নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের নীতি গ্রহণ করেছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।

বিগত শাসনব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে একটি স্বৈরাচারী সরকার রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমরা এখন সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব আইন প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।’

বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে মাস্টারকার্ডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাভি অরোরা বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ব্যবসা ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ পাওয়াই আমাদের মূল প্রত্যাশা।’ বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা পেলে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী।


এদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৩৩ সদস্যের আরেকটি প্রতিনিধিদল পৃথক বৈঠকে মিলিত হয়। এই দলের নেতৃত্ব দেন কাউন্সিলের উপদেষ্টা নিশা বিসওয়াল।

বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বড় পরিসরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব প্রশাসনিক ও কৌশলগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় ভবিষ্যৎ বাণিজ্যনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্সের প্রসার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, পাট, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ (শিপ রিসাইক্লিং) খাতকে বহু বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি শিল্পে পরিণত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসার সূচকে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে ছিল। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন লাইসেন্স, পারমিট ও ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াগুলো সহজ করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন ও আমলাতান্ত্রিক পুনরাবৃত্তি চিহ্নিত করে তা দূর করা হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের অনুমোদন ও সেবা দ্রুত ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে, যাতে ব্যবসায়ীদের সশরীরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে না হয়।