রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী এবং টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সিপিবি নেতা আবু বকর ছিদ্দিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুই নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব অভিমুখে সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের অধিকার এবং সমাজে চলমান অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভিন্নমত দমন করা রাষ্ট্রের কাজ নয়, বরং নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত।
সিপিবি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন স্থানীয় সিপিবি নেতা আবু বকর ছিদ্দিক। এই প্রতিবাদের জের ধরে পরবর্তীতে ছাত্রদল নেতাকে নিগৃহীত করার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার কারণে কোনো রাজনৈতিক কর্মীকে এভাবে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের বিষয়ে নেতারা বলেন, রাঙ্গামাটি শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন সৈকত রঞ্জন। এর জেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। এভাবে গ্রেপ্তারের আইনগত প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা না রেখে কোনো নাগরিককে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে গ্রেপ্তার দেখানো আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
সমাবেশ থেকে আবু বকর ছিদ্দিক ও সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মামলার আইনগত ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ এবং সব ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করে তাঁদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।