রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের আগাম সবজি শিমের দাম ২০০ টাকা কেজিতে ঠেকেছে, যা বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে দামি সবজি। বিপরীতে সবচেয়ে কম দামে মিলছে পেঁপে, বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। পেঁপে ছাড়া অন্য যেকোনো সাধারণ সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি অন্তত ৭০ টাকা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে জানা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এর মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া বরবটি, ঝিঙে, করলা ও কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি এবং লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শসা তুলনামূলক কিছুটা কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া গেলেও দেশি শসা বিকোচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ইদ্রিস মিয়া নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজ বেগুন ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা আর এক পোয়া মরিচ ৪০ টাকায় কিনেছি। সবকিছুর দামই আগুন।”
সবজির চড়া দামের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি মিলেছে কাঁচা মরিচে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় ওঠা মরিচ এখন সরবরাহ বাড়ায় মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় নেমে এসেছে।
অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দরও অপরিবর্তিত রয়েছে—প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫৫ টাকা ও হালি ৫৫ টাকা।
মাছের বাজারেও চড়া দর বজায় রয়েছে। আকারভেদে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বাইম ও দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছের দাম কেজিতে হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।
রায়ের বাজারের মাছ বিক্রেতা সুলতান আহমদ বলেন, ‘মাছের দাম মূলত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। সকালে এক দাম থাকলে বিকেলে অন্য দাম হয়ে যায়। তবে বাজারভেদে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা কম-বেশি হতে পারে।’
