ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের মিত্রতা থাকলেও আসন্ন নির্বাচনে তাকে সরাসরি সমর্থন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং বিরোধী দলীয় নেতা ও দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট সম্পর্কে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে এই নির্বাচনে নেতানিয়াহুর আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত কি না—জানতে চাওয়া হলে সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তবে ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে তাঁর নিজের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।
বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাজ করার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, আইজেনকোট সম্পর্কে তিনি নেতিবাচক কিছু শোনেননি।
অবশ্য নেতানিয়াহুকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আগে অনেকেই নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ বলে ধরে নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
ইরান সংঘাত এবং লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সাক্ষাৎকারে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার আগাম খবর নেতানিয়াহু পেয়েছিলেন কি না—এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু আগে থেকে জানতে পারলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন।
ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, শুরুতে চার থেকে আট সপ্তাহের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা থাকলেও ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে অভিযান দীর্ঘায়িত করা হয়।
তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে ইরান সাময়িক সুবিধা পেলেও পরে যুক্তরাষ্ট্র ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই সঙ্গে শর্ত উপযুক্ত না হওয়ায় ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে দাবি করেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
