আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘আমরা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেশের গণতন্ত্র ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমরা নিজেরা ভোট জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। ভোট আপনার অধিকার—এই অধিকার অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি।
গণসংযোগকালে জোনায়েদ সাকি বলেন, ১৯৭১ সালে লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। একইভাবে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়েও তরুণ সমাজ ত্যাগ স্বীকার করেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তুলছেন। সারা দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে বাঞ্ছারামপুর প্রথম স্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অথচ এই এলাকার সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন সাকি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, মেঘনা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে বাঞ্ছারামপুর শিল্প ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি তিনি তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তারা ঘরে বসেই বিশ্ববাজারে কাজ করার সুযোগ পায়।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দেশ হবে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের। তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নদী-নালা, খাল-বিল ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, প্রবীণ ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়া, নারীদের নিরাপত্তা এবং শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আরও বলেন, সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে। উন্নয়ন ও নৈতিক সমাজ—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘মাথাল’ প্রতীক বিজয়ী হলে এবং জোট সরকার গঠন করতে পারলে বাঞ্ছারামপুরের ন্যায্য দাবিগুলো সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গণসংযোগে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মূসা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালে মূসা, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক লিয়াকত আলী ফরিদ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা বশীর আপেলসহ বিএনপি ও জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।