ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। আখতার আহমেদ বলেন, “এখন পর্যন্ত ১১৬টি আসনে ব্যালট পেপার সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ব্যালট পেপার পৌঁছে যাবে।”
তিনি আরও জানান, বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য মুদ্রিত ব্যালট পেপারের একটি অংশ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত বিদেশ থেকে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ব্যালট রিটার্নিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে মেটা (ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান)-এর সঙ্গে ইসির আলোচনা চলছে। তবে এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি বা নেট স্পিড কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে নয় কমিশন। বরং নির্দিষ্ট বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট চিহ্নিত করে তা অপসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠকে ইইউ পর্যবেক্ষক দল আসন্ন নির্বাচনে নারী, সংখ্যালঘু ও সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রত্যাশার কথা জানায়। বৈঠক শেষে ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্থিতিশীল ও অনুকূল থাকে—সেটিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাশা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্যালট পেপার বিতরণসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে এবং ভোটগ্রহণের দিন ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।







