দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪১তম সভায় এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় এই এলএনজি কেনা হচ্ছে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে এক কার্গো এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জি থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে।
ক্রয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল থেকে কেনা এলএনজির প্রতি এমএমবিটিইউর দাম পড়বে ২৪ দশমিক ৬২৫ মার্কিন ডলার। এই কার্গোটি আগামী ১৩-১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জি থেকে কেনা কার্গোটির প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ধরা হয়েছে ২৪ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার। এই কার্গোটি ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।
সোমবারের সভায় মোট ১৩টি ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়, যার মধ্যে এলএনজি আমদানির বিষয়টি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এর আগে গত বুধবার সৌদি আরবের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যার প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ছিল ২৩ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার। ওই কার্গোটি ১-২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আসার কথা।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিশেষ ধারা অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই জ্বালানি সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, সামিটের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এভাবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করে শিল্প ও আবাসিক খাতের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।