দীর্ঘ ৩৫ বছরের বিরতি ভেঙে আবারও সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও কোনো প্রার্থীই তাদের নাম প্রত্যাহার করেননি। ফলে ভোটের মাঠে এখন দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর দ্বৈরথ নিশ্চিত হলো।
মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী সরে না দাঁড়ানোয় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটদানের পদ্ধতি বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটার হিসেবে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।”
ভোটের নিয়ম ও প্রক্রিয়া
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ কক্ষে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ‘নির্বাচনকর্তা’ হিসেবে ভোট শুরুর আগে সংসদ সদস্যদের ভোটদানের পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।
ভোটের গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের ব্যালট পেপার তৈরি করা হয়েছে। সচিব জানান, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট। মুড়ি অংশে ভোটারের ক্রমিক নম্বর, নাম ও বিভক্তি নম্বর থাকবে। সেখানে সংসদ সদস্য নিজে স্বাক্ষর করে মূল ব্যালট সংগ্রহ করবেন। মূল ব্যালটে প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যাক্ষর অনুযায়ী মুদ্রিত থাকবে। সংসদ সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন বা স্বাক্ষর দিয়ে ব্যালট বাক্সে জমা দেবেন।
বিকেলেই ফলাফল
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই শুরু হবে গণনা। প্রাপ্ত বৈধ ও বাতিল ব্যালটের হিসাব শেষে যে প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, তাকেই বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা পরবর্তী নির্দেশনার জন্য নাগরিকদের নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন ইসি সচিব। দীর্ঘ কয়েক দশক পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমন সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের রায়ে কার মাথায় উঠছে দেশের সর্বোচ্চ পদের মুকুট।