দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ভুল নীতি’ ও ‘দুর্নীতি’কে দায়ী করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই বেহাল দশা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংকট প্রকট হয়েছে। এর মধ্যে একটি মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে, অন্যটির কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। সরকার সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছে। দেশীয় গ্যাস উত্তোলন এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যত দিন গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি না পাচ্ছে, তত দিন আমদানি করে হলেও সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জোনায়েদ সাকি বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম স্তম্ভ হলো আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা। সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।”
বেগম রোকেয়ার পৈতৃক বাড়ি সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, অবহেলার কারণে পায়রাবন্দে রোকেয়ার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। সরকার এই বাড়িটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী পায়রাবন্দ পৌঁছে বেগম রোকেয়ার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রীমতি পাপিয়া, কলকাতার সমন্বয়ক প্রাণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়, বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের সভাপতি রাজু আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলালসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।