আগস্ট ১৮, ২০২৬

অবৈধ ও মানহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর সরকার: ৫ মাসে বন্ধ ২৫০ প্রতিষ্ঠান

Writer
18 Aug, 2026 11:42 AM

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে লাইসেন্সবিহীন ও মানহীন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে সরকার। গত ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে গত পাঁচ মাসে রাজধানীসহ সারা দেশে ২৫০টিরও বেশি অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ মাসে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে আড়াই শর বেশি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলেও অন্তত ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে তাদের ত্রুটি সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের এই কঠোর অবস্থানের ফলে স্বাস্থ্য খাতের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের লাইসেন্স নবায়ন সম্পন্ন করেছে। এ ছাড়া আরও প্রায় ৩ হাজার প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১ হাজার ২৮৫টি প্রতিষ্ঠান কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঢাকা বিভাগে—৪১৫টি। এরপরই ময়মনসিংহে ২৫২টি এবং চট্টগ্রামে ২৪০টি অবৈধ প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় ১৫৬, রংপুরে ১১১, রাজশাহীতে ৫৫, বরিশালে ৪৮ এবং সিলেটে ৮টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে।

নামি প্রতিষ্ঠানেও অনিয়ম
কেবল অখ্যাত ক্লিনিক নয়, রাজধানীর প্রায় ২৫টি নামি-দামি হাসপাতালেও গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেককে মোটা অঙ্কের জরিমানা করার পাশাপাশি কোনো কোনোটিকে সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত কয়েক দিনে ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, শরীয়তপুর, পাবনা ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মানহীন বা অবৈধ কোনো প্রতিষ্ঠানকে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। যারা ন্যূনতম মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হবে, তাদের প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, কেবল লাইসেন্স থাকলেই হবে না, বরং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, পরিবেশ এবং চিকিৎসক ও নার্সদের বৈধ সনদও যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভুয়া ডাক্তার ও টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। জনস্বার্থে এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারের এই কঠোর তদারকি বজায় থাকলে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও হয়রানি অনেকাংশেই কমে আসবে। তবে শুধু অভিযান নয়, নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগ: জাতীয়