ভোক্তাপর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানিতে উঠে আসা বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সময়ে এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে কমিশন।
বিইআরসি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৬) ধারা মেনে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়। শুনানিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস পিএলসি, বেসরকারি এলপিজি অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর, রিটেইলার এবং অটোগ্যাস স্টেশন মালিকদের পক্ষে নিজ নিজ পরিচালনা ব্যয় ও নতুন মূল্যহারের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিইআরসির গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন দল তাদের পর্যালোচনা প্রতিবেদন পেশ করে। এতে এলপিজির মূল্য নির্ধারণের আইনি ভিত্তি, কমিশনের এখতিয়ার ও বিবেচ্য ব্যয়সমূহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়। শুনানিতে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা মতামত প্রদান করেন।
বিইআরসি জানিয়েছে, গণশুনানি শেষেও আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য লিখিত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রস্তাবিত মূল্য, কারিগরি কমিটির সুপারিশ এবং প্রাপ্ত লিখিত মতামত পর্যালোচনা শেষে বিধিবিধান অনুযায়ী দ্রুতই নতুন মূল্যহার জারি করা হবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারদর, ডলার বিনিময় হার, পরিবহন খরচ এবং পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার কমিশন হিসাব করে বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে কমিশন নির্ধারিত মূল্য অনেক সময় খুচরা পর্যায়ে কার্যকর না হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন সাধারণ ভোক্তারা। এ অবস্থায় যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ ও বাজারে তা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানানো হয়েছে।
