বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পিবিআই জানায়, তথ্য সংগ্রহের জন্য দ্বীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর শাখায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় দুজন একসঙ্গে ছিলেন। তাই তাঁরা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে দ্বীপের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
তাহসিফ সাউরির স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর তার বাসার নিচে এসে ডাকেন বন্ধুস্থানীয় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। তাহসিফ মাকে বলেন, দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে বাসায় ফিরবেন। তবে বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছেন। দ্বীপ ছিলেন আলাদা মোটরসাইকেলে।
রাতে ছেলের বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় মা একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকে পাওয়া যায়নি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের ফোনে একটি বার্তা আসে—‘মা, আসছি’। কিন্তু তাহসিফ আর ফেরেননি।
তবে তাহসিফের এক নিকটাত্মীয় দাবি করেছেন, সবশেষ পাঠানো ভয়েজ মেসেজটি তার কাছে তাহসিফের বলে মনে হয়নি। তাহসিফের বাবা বলেছেন, ভয়েজ মেসেজটি শুনে ছেলেকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল তার।
যার ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, সেই দ্বীপ জানান, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য গ্যারেজে যান তাঁরা। সেখান থেকে উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। এরপর দুজন নিজ নিজ মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন তিনি।
দ্বীপ জানান, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর তিনি নিজ বাসায় ফেরেন। তাহসিফের বিষয়ে আর কিছু জানেন না।
উল্লেখ্য, দ্বীপ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তাঁর বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায়।
