বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অটোরিকশাচালক হাফিজুল শিকদারকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (২৩শে অক্টোবর) তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে বাড্ডা থানা পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিদুয়ানুল হক।
আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে জানা যায়, বাড্ডা থানার এই হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত দীপু মনির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। তবে সে সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও অন্যান্য মামলায় রিমান্ড এবং হাজিরা থাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে এ মামলায় তাৎক্ষণিক রিমান্ডে নিতে পারেননি।
পরবর্তীতে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে রিমান্ড কার্যকর করার জন্য নতুন আবেদন করা হলে আদালত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গত বুধবার (২১শে অক্টোবর) তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে আজ শুক্রবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলো।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০শে জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অটোরিকশাচালক হাফিজুল শিকদার অংশ নেন। ওই দিন বিকেল তিনটার দিকে আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান। এই নির্মম ঘটনার পর নিহত হাফিজুলের বাবা আবু বক্কর শিকদার বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১শে আগস্ট বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
