দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে (১৯) আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে গাজী নজরুলের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আপসের শর্তে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের বিরোধিতা করে। শুনানি চলাকালে মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে একটি আপসনামা দাখিল করে জানান, আসামির জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তবে উভয় পক্ষের যুক্তি ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করার আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, গত জুন মাসে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ন্যাম ভবনের বাসায় প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে মরিয়মের ওপর নানা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশসহ গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করেন। পুলিশ ওই কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও (সুইসাইড নোট) উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তারের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। রিমান্ড শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম জামিন পেলেও গাজী নজরুল ইসলাম কারাগারেই রয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত জুলাই মাসে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুলের অনৈতিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ২২ জুলাই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
