রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার সংসদ সদস্য ভবনের (ন্যাম ভবন) একটি ফ্ল্যাট থেকে ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধারের পর সেখানে হাতে লেখা বেশ কিছু রহস্যজনক চিঠি ও চিরকুট পাওয়া গেছে। জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাড, সাধারণ সাদা কাগজ এবং লাল ও কালো কালির আঁচড়ে লেখা এসব পাতায় সম্পর্ক, প্রেম, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের গভীর যন্ত্রণার কথা ফুটে উঠেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট—যেটি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসা—সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
চিঠির পাতাগুলোতে কোথাও গভীর অনুভূতি, আবার কোথাও চরম বিষাদ ও আত্মসম্মানের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে লেখা একটি পাতায় বলা হয়, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’
অন্য একটি সাধারণ কাগজে কোনো একজনের প্রতি ভালোবাসার অপূর্ণতার কথা তুলে ধরে লেখা হয়েছে, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী—কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’
ছলনার শিকার হওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করে এক স্থানে লেখা রয়েছে, ‘সে বলেছিল—আজ থেকে আমরা বন্ধু—চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’
পরাজয় স্বীকারের পাশাপাশি পরিণতির সতর্কবার্তা দিয়ে একটি পাতায় লেখা হয়, ‘আমি হেরেছি--- তুমি জিতেছো-- কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’ অন্য একটি লাল কালিতে লেখা বার্তায় আত্মসম্মান নিয়ে লেখা, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...!’
চিঠিগুলোর পাশাপাশি গত ১২ জুলাইয়ের তারিখ সংবলিত একটি বিশেষ পাতাও পাওয়া গেছে। ওই পাতায় ঘুমানোর পূর্বে করণীয় ছয়টি ধর্মীয় আমলের (কালেমা, দুরুদ শরীফ, আয়াতুল কুরসী, ইস্তিগফার ইত্যাদি) একটি তালিকা তালিকাভুক্ত ছিল।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব চিঠি ও উদ্ধারকৃত আলমত জব্দ করেছে। পুরো ঘটনাটি প্রেম ও মানসিক টানাপোড়েনজনিত নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।