লক্ষ্মীপুর, ৩ ফেব্রুয়ারি: লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি–কমলনগর) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের দলীয় দূরত্ব ও বহিষ্কারাদেশের অবসান ঘটিয়ে বিএনপিতে ফিরেছেন রামগতি উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরাফ উদ্দিন আযাদ সোহেল। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজান-এর প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে রামগতি উপজেলার রামদয়াল এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সোহেল চেয়ারম্যান ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি বিএনপি পরিবারের একজন সদস্য। দীর্ঘ সময় দলীয় কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকলেও জাতীয়তাবাদী আদর্শকে কখনো হৃদয় থেকে সরাইনি। জীবনে কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হইনি। ধানের শীষের টানেই আজ আবার নিজ ঘরে ফিরে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আমি সক্রিয়ভাবে কাজ করব।”
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে সরাফ উদ্দিন আযাদ সোহেল এর আগে জেলা বিএনপি কর্তৃক বহিষ্কৃত হন। চলমান নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় স্থানীয় রাজনীতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়।
পরবর্তীতে গত রোববার রাতে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি-এর মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজানের সঙ্গে সোহেল চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিনের দূরত্বের অবসান ঘটে।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোহেলের বহিষ্কারাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোহেল চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন রামগতি-কমলনগর এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।