ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি: দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ এলিট ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’।
তিনি বলেন, “বাহিনীর কাঠামো ও কার্যক্রম পর্যালোচনার পর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নামের সঙ্গে নতুন পোশাকও তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি আদেশ দ্রুততম সময়ে জারি করা হবে।”
র্যাব ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি পরিচিত ছিল র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট) নামে। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে র্যাব করা হয়। দীর্ঘ ২২ বছর পর এই নামের পরিবর্তনের মাধ্যমে বাহিনীকে নতুন পরিচয় দেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাহিনীটির নাম পরিবর্তন শুধু শীর্ষ নেতৃত্বের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি তাদের কার্যক্রম, দক্ষতা ও জনসেবার মান উন্নয়নের একটি অংশ।” তিনি জানান, নতুন নামের সঙ্গে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কাঠামো, প্রশিক্ষণ, কার্যক্রম ও দায়িত্ব ভাগও নতুনভাবে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
এর আগে, র্যাবের নাম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা ও আলোচনা হলেও, ২২ বছর পর সরকার প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন নাম এসআইএফ প্রতিপাদ্য করবে—দ্রুত, কার্যকর ও বিশেষ অভিযান।
র্যাব বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র-চোরাচালান, জলদস্যুতা ও সন্ত্রাস দমন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উল্লেখ করেন, “দেশের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এই পরিবর্তন অপরিহার্য।”
বাহিনীর নতুন নাম ও পরিচয়ের মাধ্যমে জনতার সঙ্গে সৃষ্টির আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও শক্তি যোগ হবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাম পরিবর্তন শুধু প্রতীকী নয়; এটি বাহিনীর কর্মকৌশল ও জনসেবার মান বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নতুন নামের সঙ্গে নতুন ইউনিফর্ম, ব্যাজ ও লোগোও চালু হবে। এছাড়াও বাহিনীটির বিভিন্ন ডিভিশন ও অধিনায়ক পর্যায়ের পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে, যাতে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে অভিযানের গতি ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।
এ বিষয়ে আইন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, “র্যাবের নাম পরিবর্তন তার কার্যক্রম ও ভাবমূর্তির জন্য নতুন দিগন্ত খুলছে। এটি জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে র্যাবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর কার্যক্রমে জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও নজর রাখে। নতুন নাম এসআইএফ বাহিনীর সক্ষমতা, দায়িত্ব ও জনগণের আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।