নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনে কোনো দলীয় নেতা বা জনপ্রতিনিধিকে দুর্নীতিতে জড়াতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দুর্নীতির প্রমাণ মিললে যে কোনো পর্যায়ের নেতা বা জনপ্রতিনিধিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওইদিন নন্দেরছটি, দুবরাজপুর, গাঁওকান্দিয়া, জাগিরপাড়া বাজার, ভাদুয়া বাজার, মুন্সিপাড়া বাজার ও শংকরপুর বাজারে ধারাবাহিক পথসভা করেন তিনি।
পথসভায় অংশ নেওয়া সাধারণ ভোটাররা তাদের দৈনন্দিন সমস্যা, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন—সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকারি কার্ড বিতরণে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, নির্বাচিত হলে সেই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা হবে। বিধবা কার্ডসহ কোনো সরকারি সুবিধা পেতে দলীয় নেতা বা জনপ্রতিনিধিকে এক টাকাও দিতে হবে না। এ ক্ষেত্রে কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে একটি দুর্নীতিমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত প্রাপকদের হাতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। “আমি ক্ষমতার রাজনীতি করতে আসিনি, আমি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে এসেছি”—এমন মন্তব্য করে তিনি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, দুর্নীতি বা ঘুস গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে যে কোনো স্তরের দলীয় নেতা বা জনপ্রতিনিধিকে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।” তিনি নেত্রকোনা-১ আসনকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।
পথসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।