Busimess

বিশ্বকাপ ফুটবলের আংশিক বেসরকারীকরণ এবং ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পে বাংলাদেশের সমর্থন দেওয়ার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সেই বিতর্কিত প্রস্তাবে বাফুফে আগাম কোনো সমর্থন বা সম্মতি দেয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্য নিয়ে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের প্রস্তাব এনেছিলেন। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ফিফার সদস্যদেশগুলোর তহবিল বর্তমানে পাওয়া ১০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সুযোগ থাকত। তবে বিশ্ব ফুটবলের বড় শক্তিগুলো শুরু থেকেই এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (উয়েফা) এবং এর অধীনে থাকা ৫৫টি দেশ একযোগে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিলে, তীব্র আপত্তির মুখে মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই পরিকল্পনা থেকে পিছু হটে ফিফা।

এই বিতর্কের মধ্যেই একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, “আমরা কোনো ধরনের আগাম সমর্থন বা সম্মতি (কনফারমেশন) দিইনি, কোনো ব্যক্তির পক্ষেও নয়, কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেও নয়। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামের যে কর্মসূচিটি নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মতামত চাওয়া হয়েছিল, আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটি (ইসি) তা বিবেচনা করার আগেই ফিফা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি বাতিল ঘোষণা করেছে।”

ফিফার এই প্রকল্পের বিরোধিতায় উয়েফার পাশাপাশি কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকা) ও কনকাকাফ (উত্তর আমেরিকা) অঞ্চলের দেশগুলোও সোচ্চার ছিল। এমনকি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) এর বিপক্ষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। এএফসির সদস্য হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমটি সমর্থনকারী দেশের তালিকায় ঢালাওভাবে বাংলাদেশের নাম জড়িয়েছে বলে মনে করেন বাফুফে সভাপতি।

তাবিথ আউয়াল আরও যোগ করেন, বাফুফেতে একক সিদ্ধান্তে কোনো প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় না। যেকোনো বিষয়ে কার্যনির্বাহী কমিটিতে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এই প্রকল্পটির ক্ষেত্রে বাফুফে তেমন কোনো সিদ্ধান্তই নেয়নি।

এদিকে বিতর্কিত প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেলেও ফিফার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলাঙ্গনে আলোচনা থামেনি। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, মরক্কো ও কাতারের মতো দেশগুলো ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেবে কি না, তা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন বাফুফে প্রধান। বিষয়টিকে ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন তিনি।

তাবিথ আউয়াল বলেন, “উয়েফার শক্ত অবস্থানের কারণে বিষয়টি এখন ভূরাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। তাই আমি মনে করি, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির পাশাপাশি আমাদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা করা প্রয়োজন। সার্বিক দিক বিবেচনা করেই আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করব।”