ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আইন ভঙ্গ কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অপরাধ, জালিয়াতি ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে দ্রুত গতিতে রেকর্ড তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আল জাজিরাকে জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দপ্তরটি।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ভিসা বাতিলের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি ও ভুল তথ্য প্রদান। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরবর্তীতে ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগানো বিদেশিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকা বা সহায়তার অভিযোগে চার হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ছিল সহিংস আক্রমণ ও সমপর্যায়ের অপরাধের অভিযোগ। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে বাতিল হয়েছে ২২ শতাংশ ভিসা। এছাড়া চুরি সংক্রান্ত ঘটনায় ৭ শতাংশ এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বা পাচারের অভিযোগে আরও ৭ শতাংশ ভিসা বাতিল করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আইন ভাঙা বা সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটানো কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে চলতি বছরের আগস্টেই বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছিল। তবে পর পর কয়েক ধাপে ভিসা বাতিলের এ সংখ্যা তিন লাখের মাইলফলক অতিক্রম করল।
এদিকে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণসহ নিরাপত্তা তল্লাশি ও আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে প্রশাসন। তবে মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে নজরদারির ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং অভিবাসীরা অন্যায্য পর্যবেক্ষণের শিকার হচ্ছেন।
সূত্র : আল জাজিরা
