অ্যাসিমেট্রিক জৈব সংশ্লেষণে অরৈখিক প্রভাব (non-linear effect) ও স্বয়ং-অনুঘটন (autocatalysis) আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বিজ্ঞানী হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের পর নোবেল সপ্তাহের তৃতীয় দিন রসায়নে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের নাম ঘোষণা করা হলো।
পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল কমিটির রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হেইনার লিংকে বলেন, ‘এবারের পুরস্কারটি মৌলিক রসায়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিককে নির্দেশ করে।’
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি মানুষের দুই হাতের উদাহরণ টানেন। হেইনার লিংকে জানান, অনেক অণু দুটি ভিন্ন রূপে পাওয়া যায়। মানুষের দুটি হাত দেখতে একে অপরের দর্পণ প্রতিবিম্বের মতো হলেও তারা অভিন্ন নয় এবং একটির ওপর অন্যটি পুরোপুরি বসানো যায় না। আণবিক রসায়নের ভাষায় এ ধরনের অণুকে ‘কাইরাল’ বলা হয়, যা গ্রিক শব্দ ‘হাত’ থেকে এসেছে।
বিজয়ী দুই বিজ্ঞানী আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আয়োজিত এক সমাবর্তনে সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্ল গুস্তাভের কাছ থেকে নোবেল পদক গ্রহণ করবেন। দিনটি আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী। আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণের পর স্টকহোম সিটি হলে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে।
পুরস্কার হিসেবে নোবেলজয়ীরা একটি স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) অর্থভাগ করে নেবেন।
উল্লেখ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ধাতু-জৈব কাঠামো (মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক) উদ্ভাবনের জন্য সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর ইয়াগিকে রসায়নে নোবেল দেওয়া হয়। এই বিশেষ আণবিক প্রযুক্তি জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সুইডিশ বিজ্ঞানী ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে ১৯০১ সাল থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। নোবেলের ছয়টি পুরস্কারের মধ্যে কেবল শান্তি পুরস্কারটি নরওয়ের অসলো থেকে দেওয়া হয়; বাকি পাঁচটি প্রদান করা হয় সুইডেনের স্টকহোম থেকে।
