বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের পর দেশে একটি নির্বাচন এসেছে। এই নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে দেশ আবারও সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে।
মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনের সময় ভোটারদের বিভ্রান্ত করার নানা অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটের সময় অনেক সময় ঘরের কাছের মানুষও ভুল বোঝাতে পারে, মিথ্যা প্রচারণা চালাতে পারে। কিন্তু ভোট একটি পবিত্র আমানত। কোনো অপকৌশল বা বিভ্রান্তিতে পা না দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সেই আমানত রক্ষা করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এর ফলে ভোটাররা ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।
স্বাধীনতাযুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধই আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। এই যুদ্ধ আমাদের একটি স্বাধীন দেশ, ভূখণ্ড এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। আমাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার পথও এই স্বাধীনতার মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে পেছনে ঠেলে দিতে চায়। কিন্তু একাত্তরকে অস্বীকার করা মানে নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে বিএনপি কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অসাম্প্রদায়িকতার বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে, উন্নয়নের স্বার্থে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের প্রশ্নে বিএনপি আপসহীন। এই মূল ভিত্তিগুলো নিয়েই দল সামনে এগিয়ে যেতে চায়।
নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সঠিক সিদ্ধান্তই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে—এমন মন্তব্য করে তিনি ভোটারদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।