সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও দেশ সেরা ফলাফল করেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ।
আজ প্রকাশিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ১৫৫২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৫৫১ জন। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ২০১২ সাল থেকে টানা তিন বছর ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। গত ২০১৫ সাল থেকে বোর্ড কর্তৃক সেরাদের তালিকা না হলেও নিজেদের ধারাবাহিকতায় অক্ষুণ্ন রেখেছে। এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ১৫৫২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালে অসুস্থ হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় একজন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫৬১ জন।
এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষায় ১৮০ জনের শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬৯ জন। মানবিক বিভাগ থেকে ৩১১ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮জন।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া সোয়াইব হোসেন বলেন, আমি কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষক, অভিভাবকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষণিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই।
মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মাইমুনা আক্তার বলেন, কঠোর পরিশ্রম আর শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকির কারণেই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পেরেছি।"
কলেজের অধ্যক্ষ হেরেম উল্লাহ আহসান বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমাদের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার সরাসরি নির্দেশনায় নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, টিউটেরিয়াল, মাসিক পরীক্ষা, গাইড টিচারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানসহ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি।
একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালে অসুস্থ হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় একজন অকৃতকার্য হয়েছে। যার কারণে শতভাগ পাস থেকে বঞ্চিত হয়েছি।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ভালো ফলের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এটি নরসিংদীবাসীর অর্জন।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০০৮ সালে প্রথম ফলাফলে এই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৯৯ শতাংশ, ২০০৯ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম এবং সমগ্র বাংলাদেশে ষষ্ঠ স্থান, ২০১০ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ স্থান, ২০১১ সালে ঢাকা বোর্ডে সপ্তম, ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ঢাকা বোর্ড তথা সমগ্র বাংলাদেশে শতভাগ পাসসহ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। পরবর্তীতে শিক্ষাবোর্ড থেকে সেরাদের তালিকা প্রকাশ বন্ধ হলেও সকল ক্যাটাগরিতে ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯, ২০২০, ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও দেশ সেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।
