ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ দেশের সকল শ্রেণীর মানুষকে সাথে নিয়েই রাজনীতি এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, “মানুষের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে পুনরায় বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে চায় বিএনপি। কোনো বিশেষ ধর্ম বা জনগোষ্ঠীকে পুঁজি করে ভোটের রাজনীতি করার ইচ্ছা আমাদের নেই।”
শুক্রবার (২৩শে অক্টোবর) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপি আবহমান কাল ধরে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। দলটির রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে দেশের সকল স্তরের মানুষ।” এ সময় ধর্মকে পুঁজি করে সুবিধা আদায়ের ভোটের রাজনীতি বন্ধ করে দেশের আপামর জনগণের কল্যাণে কাজ করতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, “বিগত নির্বাচনগুলোর আগে জামায়াত নেতারা বেহেশতের টিকিট ও ধর্মীয় অনুভূতির দোহাই দিয়ে ভোট নিয়েছেন। এমনকি দুর্গোৎসবের সময় পূজামণ্ডপে গিয়ে ঢাকের তালে নেচেছেন, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছেন। অথচ রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই এবার দুর্গাপূজায় তাদের আর কোনো পূজামণ্ডপে দেখা যায়নি—যা তাদের রাজনৈতিক দ্বিচারিতাই স্পষ্ট করে।”
সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সংসদে ও সংসদের বাইরে সবসময় বিরোধী দলের যৌক্তিক কথা শুনছে এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করছে। তবে বাকস্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে বিরোধী দলের কিছু নেতা জাতীয় নেতাদের অসম্মান করে অত্যন্ত অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য অব্যাহত থাকলে দেশের সচেতন জনগণ তা মেনে নেবে না।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নতুন সরকার হাতে পেয়েছে। এই সংকটের আশু সমাধানে সরকারকে ন্যূনতম সময় দেওয়া উচিত। অথচ তারা জাতীয় দায়িত্ব এড়িয়ে সংসদের বাইরে গিয়ে ‘তেল দে, গ্যাস দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’ স্লোগান তুলে উসকানিমূলক লংমার্চ করছে।”
লংমার্চ পরিহারের তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, “তেল ও গ্যাসের দাবিতে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করা হয়েছে, সামনে ঢাকা-খুলনা লংমার্চের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। এসব রাজপথের কর্মসূচি বন্ধ করে আগামী ৯ই নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য আমি বিরোধী দলকে আহ্বান জানাচ্ছি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিরোধী দলের যা কিছু বক্তব্য ও দাবি আছে, তা রাজপথে নয়—সংসদে এসে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার।”
