রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক এবং তার একান্ত সচিব (পিএস) ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে ‘মব’ তৈরি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে ভিসির কার্যালয়ে প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটায়।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় উপাচার্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল জোরপূর্বক উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তাকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ তুলে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তাদের আগে থেকে টাইপ করে আনা পদত্যাগপত্রে উপাচার্য ও পিএসের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাদের কার্যালয় থেকে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ভিসির কার্যালয় থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ ও সিসিটিভির ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়ার এবং ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেস্ট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘অনলাইন মিটিং চলাকালে হট্টগোল শুনে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল আমার দপ্তরে ঢুকে পড়ে। তারা আমাকে গালিগালাজ করে কঠোর ভাষায় চেয়ার থেকে উঠে আসতে বলে এবং জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, স্বাক্ষর না করলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারত।’
তিনি আরও অযোগ করেন, হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং কম্পিউটারে থাকা শিডিউলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে দেয়। বর্তমানে তার দপ্তরের সব কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য জানান, তিনি হামলাকারীদের চিনতে পারেননি এবং এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন ছিল কি না তা নিয়ে কিছু মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে, শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সেকশন অফিসার ও ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘আমাকে জোর করে ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। প্রথমে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারধর করে।’
ঘটনার বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ভিসির কক্ষ তালাবদ্ধ দেখলেও কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা যে-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
