পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ এক বছরে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মূল ঋণ ব্যবসা থেকে আয় কমলেও ঋণ অবলোপনের (রাইট অফ) পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আইপিডিসির খেলাপি ঋণ ছিল ৪০৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৫ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। খেলাপি ঋণের হার ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ হয়েছে। খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে (১৫ দশমিক ০৫ শতাংশ) এবং কৃষি খাতে (১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ)।
খেলাপি ঋণের পাশাপাশি বেড়েছে ঋণ অবলোপনের পরিমাণও। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ অবলোপন করলেও ২০২৫ সালে তা ১২০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
আর্থিক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইপিডিসির নিট সুদ আয় এক বছরে ১৬ দশমিক ১৭ শতাংশ কমে ২০০ কোটি ৬০ লাখ টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ মূল ঋণ ব্যবসা থেকে আয় কমেছে ৩৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অন্যদিকে আমানতকারীদের সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে আয় ৯৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ায় নিট মুনাফা ২৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ডিলয়েটের সহযোগী ‘নুরুল ফারুক হাসান অ্যান্ড কোং’ ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশন নির্ধারণকে ‘কি অডিট ম্যাটার’ (গুরুত্বপূর্ণ নিরীক্ষা বিষয়) হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নিরীক্ষকদের মতে, ঋণ শ্রেণীকরণে ব্যবস্থাপনার নিজস্ব বিচারবোধের ওপর নির্ভরতা থাকায় প্রকৃত ঝুঁকির পূর্ণ প্রতিফলন না-ও থাকতে পারে।
বার্ষিক প্রতিবেদনে কিছু তথ্যগত অসঙ্গতিও পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ব্যয় ও শাখার সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির মূলধন পর্যাপ্ততার হার কমে ১৭ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। ৫ বছরের বেশি মেয়াদে সম্পদ ও দায়ের মধ্যে ১ হাজার ৪১৪ কোটি টাকার নেতিবাচক ব্যবধান রয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আইপিডিসির মোট ঋণের ৭৭ দশমিক ১ শতাংশই বিতরণ করা হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির ১৩ শতাংশ দক্ষ কর্মী চাকরি ছেড়েছেন এবং ৫ বছরের নিট মুনাফার যৌগিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধি (সিএজিআর) ঋণাত্মক ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।