তু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শীতের শেষ এবং বসন্তের শুরুতে চিকেন পক্স (জলবসন্ত) রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি, জ্বর, মাথাব্যথা ও তীব্র ক্লান্তির মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
চিকেন পক্স মূলত ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাসের সংক্রমণে হয় এবং একবার আক্রান্ত হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। যদিও টিকা এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়, তবুও সঠিক খাদ্যাভ্যাস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কিছু পুষ্টিকর শাক-সবজি রয়েছে, যা সরাসরি চিকেন পক্স প্রতিরোধ না করলেও শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৪টি কার্যকর সবজির কথা—
গাজর একটি সুস্বাদু ও সহজলভ্য সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ (বেটা-ক্যারোটিন) রয়েছে, যা ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিকেন পক্সে ত্বকে ফুসকুড়ি ও ফোস্কা দেখা দেয়। গাজরে থাকা পুষ্টিগুণ ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা সালাদ, স্যুপ কিংবা রান্না—যেকোনোভাবে গাজর খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
পালং শাকে রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং আয়রন, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষত ভিটামিন সি ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
চিকেন পক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। পালং শাক রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সহায়তা করে এবং ক্লান্তি কমায়। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পালং শাক যুক্ত করা উপকারী।
ব্রকলি দেখতে অনেকটা ফুলকপির মতো হলেও এর পুষ্টিগুণ ভিন্ন। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে।
চিকেন পক্স থেকে দ্রুত সেরে উঠতে শরীরের কোষ পুনর্গঠন এবং প্রদাহ কমানো জরুরি—ব্রকলি এই কাজেই সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
মিষ্টি আলুতে প্রচুর ভিটামিন এ ও ফাইবার রয়েছে। এটি ত্বকের ক্ষত সারাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
চিকেন পক্সের ফলে ত্বকে যে ক্ষত তৈরি হয়, তা দ্রুত শুকাতে এবং নতুন কোষ গঠনে মিষ্টি আলু সহায়ক হতে পারে। এছাড়া এটি সহজপাচ্য হওয়ায় অসুস্থ অবস্থায়ও খাওয়া যায়।
চিকেন পক্স প্রতিরোধে কোনো নির্দিষ্ট সবজি সরাসরি কার্যকর নয়। তবে পুষ্টিকর খাদ্য শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন—
পর্যাপ্ত পানি পান
ভিটামিনসমৃদ্ধ শাক-সবজি
ফলমূল
পর্যাপ্ত বিশ্রাম
—এসবই সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিকেন পক্স হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। গাজর, পালং শাক, ব্রকলি ও মিষ্টি আলুর মতো পুষ্টিকর সবজি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সুস্থ থাকতে সঠিক খাবারই হোক প্রথম প্রতিরক্ষা।