ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানুষদের মধ্যে একটাই প্রত্যাশা – নির্বাচন হোক শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে বাধা না দেয়।
ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলে ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের ওপর।
সাবেক তারকা ফুটবলার ও সংগঠক হাসানুজ্জামান খান বাবলু বলেন,
“নির্বাচনের আগে-পরে অস্থিরতা থাকলে লিগ পেছায়, টুর্নামেন্ট বাতিল হয়, বিদেশি দল আসতে চায় না। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় স্পন্সরশিপ ও বিনিয়োগে সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ে, যার প্রভাব পড়ে ক্লাব পরিচালনা ও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকে।”
একজন ক্রীড়া সংগঠক যোগ করেন,
“খেলাধুলা হলো ঐক্যের প্রতীক। এখানে দল-মত নয়, আছে জার্সির রং ও দেশের পতাকা। রাজনৈতিক প্রভাব ঢুকলে পরিকল্পনা থমকে যায়। নতুন প্রশাসনের হঠাৎ রদবদল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”
সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্না বলেন,
“একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার মাত্র ১০-১৫ বছরের। এই সময়ে নীতি বারবার বদলালে তার ক্ষতি কে পূরণ করবে? আমাদের চাই জাতীয় ক্রীড়া নীতিতে ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা। নির্বাচন শেষে যে সরকারই আসুক, খেলোয়াড়দের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
সাবেক হকি খেলোয়াড় ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স যোগ করেন,
“আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়।”
ক্রীড়াঙ্গনের আশঙ্কা, নির্বাচনের সময় সহিংসতা বা রাজনৈতিক অচলাবস্থা হলে ক্রীড়া ক্যালেন্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রবাসী সাবেক ফুটবলার মামুন জোয়ারদার বলেন,
“রাজনীতির খেসারত খেলোয়াড়দের দিতে হয়। তারা আন্তর্জাতিক সুযোগ হারায়, দেশের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।”
সব মিলিয়ে খেলোয়াড় ও সংগঠকরা মনে করেন, খেলাধুলা হলো ঐক্যের ভাষা। রাজনীতি বদলালেও মাঠের লড়াই, দেশের জার্সি ও জাতীয় পতাকার সম্মান যেন অক্ষুণ্ন থাকে।