বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ড. শফিকুর রহমান গোপনেই ছাত্রজীবনে একটি ইসলামী সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ করেছিলেন। জানা যায়, সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজ বা এমসি কলেজে পড়ার সময়ে হতাশ হয়ে জাসদ ছাত্রলীগ ছেড়ে যাওয়ার পর কলেজ হোস্টেলে গোপনে ইসলামপন্থি সংগঠনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি।
পরবর্তী কয়েক বছরে ছাত্রশিবিরে সক্রিয় থাকার পর ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
নেতৃত্ব গ্রহণ:
জামায়াতের রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দল নিজস্ব সাংগঠনিক খোলস ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে দলের মনোনয়ন দেওয়ার ব্যবস্থা নিলেও দলটিকে নির্দিষ্ট পরিমণ্ডলে আটকে রাখা হয়নি।
দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলছেন, শফিকুর রহমান দলকে একটি নতুন ডাইমেনশন দিয়েছে।
রাজনৈতিক জীবন ও শিক্ষাজীবন:
জন্ম: ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর, মৌলভীবাজার কুলাউড়া।
ভাই-বোন: তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয়।
১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগে যোগদান।
১৯৭৬ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ (পরবর্তীতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ) ভর্তি।
এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পর ১৯৮৩ সালে পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ।
যদিও শফিকুর রহমান নিজে জাসদ ছাত্রলীগে ছিলেন, তবে সিলেটের তখনকার ছাত্রলীগের নেতাদের মতে তিনি তাতে সক্রিয় ছিলেন না। তখনকার শিক্ষার্থীরা সাধারণত জাসদ বা ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকতেন।
জামায়াতে ইসলামীতে পদোন্নতি:
সিলেট শহর, জেলা ও মহানগর আমীরের দায়িত্ব পালন।
২০১৬ থেকে ২০১৯: সেক্রেটারি জেনারেল।
২০১০ সালে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ গ্রেফতারের পর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে এটিএম আজহারুল ইসলামের পদ ছাড়ার পর আবার ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল।
২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো জামায়াতের আমির নির্বাচিত, দুই বছর মেয়াদে।
পরবর্তীতে ২০২৩ ও ২০২৫ সালে পুনঃনির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন ও নেতৃত্বের ধারা জামায়াতে ইসলামীকে নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে রাজনীতির অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।