আলু আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অন্যতম জনপ্রিয় সবজি। এটি পুষ্টিকর ও শক্তিদায়ক খাদ্য, যাতে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, শর্করা, ভিটামিন সি, বি-কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফাইবার রয়েছে। আলু দ্রুত শক্তি জোগায়, হজমে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
তবে আলু কীভাবে এবং কতটুকু খাচ্ছেন—সেটিই নির্ধারণ করে এটি উপকারী না ক্ষতিকর হবে।
আলুতে উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট থাকায় এটি দ্রুত শক্তি জোগায়। শ্রমজীবী মানুষ বা ক্রীড়াবিদদের জন্য এটি কার্যকর খাদ্য।
আলুতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। খোসাসহ সেদ্ধ আলু বেশি উপকারী।
পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন বি৬ বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং ভিটামিন সি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলু উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত। নিয়মিত খেলে ওজন বাড়তে পারে।
আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক বেশি। অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমিত খাওয়া উচিত।
সবুজাভ রঙ ধারণ করা বা অঙ্কুরিত আলুতে সোলানাইন নামক বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়। এটি বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
পটাশিয়াম বেশি থাকায় কিডনি রোগীদের অতিরিক্ত আলু খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে।
✔ খোসাসহ সেদ্ধ বা বেক করে
✔ কম তেলে রান্না করে
✔ পরিমিত পরিমাণে
✔ সবুজ বা পচা আলু এড়িয়ে
আলু নিজে খারাপ নয়—বরং এটি একটি পুষ্টিকর খাদ্য। তবে রান্নার পদ্ধতি ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে এটি উপকারী বা ক্ষতিকর হতে পারে। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ বা বেক করা আলু খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।