• রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মী খালাস

রির্পোটার / ১৮ পাঠক
আপডেট শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নিষিদ্ধ সংগঠন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান শ্রমিক লীগ নেতা রইজ আহমেদ মান্নাসহ মোট ১৩ জন নেতাকর্মীকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুরুন নাজনীন এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন পক্ষ পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাদের খালাস প্রদান করেন।

আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি

খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট এস এম আতিকুল ইসলাম রফিক, অ্যাডভোকেট মামুন চৌধুরি, একেএম আমিনুল ইসলাম সেন্টু ও অ্যাডভোকেট আর্শিব সন্যামত। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

খালাসপ্রাপ্তদের পরিচয়

খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রইজ আহমেদ মান্না, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রিশাদ আহমেদ নাদিম, লাকুটিয়া সড়ক এলাকার পারভেজ হাওলাদার, চাঁদমারি কলোনির শান্ত ইসলাম, কাউনিয়া এলাকার মেহেদী হাসান সম্পদ ও মিজানুর রহমান শাওন, মামুন হাওলাদার, আল আমিন হাওলাদার, রাসেদ হাওলাদার, কাউনিয়া প্রথম গলির ইমরান হোসেন সজিব এবং জানুকিসিংহ রোডের ফাহিম। তারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ ছিল।

মামলার পটভূমি

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়।

বেঞ্চ সহকারী রেজাউল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালের ১৪ মে রাতে নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানের সামনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর চারজন কর্মীকে মারধর করা হয়। ঘটনার পরপরই র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ওই রাতেই ১৩ জনকে আটক করা হয়। পরে আহত মনা আহম্মেদ বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত বৃহস্পতিবার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর খালাসপ্রাপ্তদের আইনজীবীরা বলেন, “এই রায় প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি করা হয়েছিল।” অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই রায় নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও